গভীর রাতে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে - breaking gram

Breaking

Wednesday, 19 January 2022

গভীর রাতে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিনিধি হুগলি, ১৯ জানুয়ারি : নাইট কারফিউ চলছে এই অজুহাত দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে ব্যাপক হেনস্থার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগর থানার বাগবাজার জিটি রোডের উপর। আক্রান্ত ওই সাংবাদিকের নাম তাপস মণ্ডল। তিনি একটি দৈনিক খবরের কাগজের হুগলি জেলার সাংবাদিক। 



জানা গিয়েছে, সারা দিনের খবরের কাজ সেরে রাতে শ্রীরামপুর থেকে স্ত্রী ও ছোট বাচ্ছাকে নিয়ে চুঁচুড়ায় ফিরছিলেন সাংবাদিক। সেই সময়ে চন্দননগর বাগবাজারে জিটি রোডের উপর একজন পুলিশ কর্মী অন্ধোকারে দাড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ সেখান থেকে বেড়িয়ে হাত দেখিয়ে সে সাংবাদিককে দাড় করায়। সাংবাদিক কিছু না বুঝেই সেখানে দাড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় তিনি পুলিশ কর্মীর উদ্যেশ্যে বলেন, অন্ধোকার থেকে বেড়িয়ে এভাবে কেউ বাইক দাড় করায়? আপনি শিতের পোশাক পড়া রয়েছেন আমি কিভাবে বুঝব আপনি পুলিশ কর্মী? ব্যাস এইটুকু প্রশ্ন করতেই আশপাশ থেকে কিলবিল করে কয়েকজন পুলিশ কর্মী জড়ো হয়ে যায়। শুরু হয় সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। পুলিশ কর্মীরা সাংবাদিকের বাইকের চাবি কেড়ে নেন। পুলিশ ঘনঘন সাংবাদিক ও তার পরিবারের স্ত্রী ও বাচ্ছার ছবি তুলতে শুরু করে। সেই সময়ে সাংবাদিকের সঙ্গে তার বাইকে বসে থাকা তার স্ত্রী ও ছোট বাচ্ছা পুলিশের এহেন ভুমিকায় ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রবল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন সাংবাদিকের পরিবার। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও পুলিশ কর্মীরা ওই সাংবাদিককে নাছোর বান্দা হয়ে বিভিন্ন আছিলায় ক্রমাগত হেনস্থা করতে থাকেন। সেই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অর্নভ ঘোষকে ফোন করে সাহাজ্য প্রার্থনা করার চেষ্টা করেন ওই সাংবাদিক। কিন্তু, পুলিশ কমিশনার রাত ১২টা ১৩মিনিটে সাংবাদিককের ফোন ধরেন নি। এই সুযোগে পুলিশ কর্মীরা সাংবাদিককে বিভিন্ন রকম জেরা করতে থাকেন।


ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন একজন পুলিশ অফিসার। এরপর তিনি সাংবাদিকের সরকারি প্রেস কার্ড, গাড়ির লাইসেন্স সহ একাধিক পরিচয় খতিয়ে দেখেন। কাগজপত্র দেখার নামে শিতের রাতে এই ভাবে প্রায় আধঘন্টা সাংবাদিকের পরিবারকে আটকে রেখে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর সাংবাদিকের স্ত্রী কেন হেলমেট পড়েননি। এই কারন দেখিয়ে ফাইন নিয়ে তবে সাংবাদিককে ছাড়া হয়।

এই প্রসঙ্গে তৃনমুলের জেলা সভাপতি স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, সাংবাদিক নিগ্রহ খুব বাজে বেপার। ওই সাংবাদিকের উচিত থানায় একটা অভিযোগ করা।


এই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার অর্ভন ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি এই বিষয়ে আরও কিছু ডিটেলে জানতে চেয়ে সাংবাদিককে হোয়ার্ট অ্যাপ করেন। কিন্তু সিপি ফোনে কিছু বলতে চাননি। তাই তার বক্তব্য জানা জায়নি।

No comments:

Post a Comment